বাংলাদেশে রোবট তৈরি, চাঁদে পাঠাবে নাসা
সালমান ফরিদ: রোবট নির্মাণের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। কন্টেইনার আদলে নতুন ধরনের এই রোবট তৈরি করেছেন এদেশের একদল মেধাবী বিজ্ঞানী। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘চন্দ্রবোট’। গ্রহান্তরে এটি নিখুঁত ও তুলনামূলক সহজে মাটি, বালু বা পাথর জাতীয় নমুনা সংগ্রহের কাজ করতে পারবে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবে দীর্ঘ ৭ মাসের পরিশ্রমে বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন রোবটটি। বিজ্ঞানীদের মধ্যে ৩ জন শিক্ষক এবং ৮ শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা সবাই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের। চন্দ্রবোটকে নিয়ে আগামীকাল শনিবার বিজ্ঞানীরা বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন। যাবেন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরোডোয় অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টারে। সেখানে ২৩ থেকে ২৮শে মে পর্যন্ত বিশ্বের শীর্ষ বহির্বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা আয়োজিত নাসা’স সেকেন্ড এনুয়াল লুনাবোটিকস মিনিং কম্পিটিশনে অংশ নেবে চন্দ্রবোট। এটিই হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসে নাসা’র বৃহৎ বৈজ্ঞানিক প্রতিযোগিতায় প্রথম অংশগ্রহণ এবং রোবট তৈরির মতো বড় কোন ঘটনা। এই প্রতিযোগিতায় সেরা হলেই একে পাঠানো হবে পৃথিবীর বাইরে। সেটা হতে পারে চাঁদ কিংবা মঙ্গল গ্রহে। এমনটাই আশাবাদী নির্মাণের বিজ্ঞানীরা। দলের প্রধান প্রফেসর ড. মো. খলিলুর রহমান বলেন, আমরা সফল ভাবেই চন্দ্রবোট তৈরি সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমাদের প্রত্যাশা, নাসা একেই পাঠাবে বহির্বিশ্বে। তিনি রোবট নির্মাণের এই সাফল্য এবং রোবট গ্রহে পাঠানোর মতো বিরল সাফল্য অর্জন হলে তা পুরো বাংলাদেশের হবে বলে মন্তব্য করেন।
গতকাল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গিয়ে দেখা যায়, দেশের ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের নিয়ে প্রফেসর খলিলুর রহমান চন্দ্রবোটের সর্বশেষ কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। তারা বলেন, ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে নাসা দ্বিতীয় লুনাবোটিকস কম্পিটিশন আহ্বান করে। অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবেদন করা হয়। এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নাসা’র রোবট তৈরির একটি নির্দেশনা ছিল। আবেদনের জবাব পাওয়ার আগেই সে অনুযায়ী অক্টোবরের ২০ তারিখ চন্দ্রবোট নির্মাতা দলের সদস্যরা একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। নাসা’র কোন সাড়া না পেলেও তারা রোবটটি কেমন হবে, ডিজাইন কি রকম করা যায় এবিষয়ে পরিকল্পনা নেন। এ পর্যায়ে চন্দ্রবোট তৈরি যখন সম্ভব মনে হয়, তার কিছু দিন পর নাসা থেকে জানানো হয়, প্রতিযোগিতা হচ্ছে না। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা তাদের কাজ থামাননি। পরিকল্পনা মতোই কাজ এগোতে থাকে। এর মধ্যে কম্পিউটার বিভাগের ছাত্র শিবলী ইমতিয়াজ হাসান রোবটের একটি থ্রি-ডি ক্যাড-এ এনিমেশন তৈরি করে। এটিকে ইন্টারনেটের ইউটিউবে আপলোড করা হয়। পাশাপাশি পাঠানো হয় নাসা’র কাছেও। সেখানে এটি কিভাবে কাজ করবে, কেমন হবে তার একটি স্পষ্ট বর্ণনাও দেয়া হয়। এতেই আগ্রহী হয়ে ওঠে নাসা। সঙ্গে সঙ্গে এটিকে মনোনয়নের কথা জানিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অনুরোধ করা হয়। বিজ্ঞানীরা জানান, এটি তৈরি হয়েছে পুরোপুরি নিজস্ব টেকনোলজিতে। পরিবেশবান্ধব করা হয়েছে একে। এর কাঠামোর বিভিন্ন অংশ নেয়া হয়েছে পরিত্যক্ত বা ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি থেকে। এর মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেল ও বাস। তৈরিতে বাইরে থেকে শুধুমাত্র ওয়ার্কশপের এক ঝালাই মেকানিকের সহায়তা নেয়া হয়েছে। বাকি সব কাজই করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই দলের অন্য সদস্য হলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. বেলাল ভূঁইয়া ও ড. মোসাদ্দেকুর রহমান। শিক্ষার্থীরা হচ্ছেন শিবলী ইমতিয়াজ হাসান, মো. জোনায়েদ হোসেন, মাহমুদুল হাসান অয়ন, আসিফুর রহমান, কাজী মুহাম্মদ রাজিন, ইফতিখার করীম রাহাত, ইমরান বিন জাফর এবং নির্ঝর তাহমিদুর রউফ। তারা বলেন, এই রোবটটি দু’টি জোনে কাজ করবে। প্রতিযোগিতায়ও এরকম জোন রাখা হবে। জোনগুলো হচ্ছে অবস্ট্রাকল ও মাইনিং। অবস্ট্রাকল জোনকে ধরে নেয়া হবে যেখানে রকেট অবতরণ করেছে সে জায়গা হিসেবে। যেহেতু রকেট অবতরণের পর সেখানকার মাটি পুড়ে যায় বা আসল অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। তাই গ্রহ থেকে নমুনা সংগ্রহে রোবটকে যেতে হবে একটু দূরে- মাইনিং জোনে। সেখান থেকে নমুনা এনে আবার রকেটে ফেলতে হবে। এটি সম্পূর্ণ রিমোট কন্ট্রোলে নিয়ন্ত্রিত হবে। চন্দ্রবোট তৈরিতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৯০ হাজার টাকা। এর মধ্যে উপাদানের মূল্য পড়েছে ৩৫ হাজার টাকার মতো। যন্ত্রাংশগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে বাসের পাদানির অ্যাঙ্গেল, মোটরসাইকেলের চেইন, স্টকেট ও রিং। ব্যাটারিই হচ্ছে এর একমাত্র জ্বালানি। তবে ব্যাটারিতে কোন লিকুইড থাকছে না। রোবটটি নাসা’র প্রতিযোগিতায় সাড়ে তিন বাই সাত মিটার দূরত্বের জায়গায় সর্বোচ্চ নমুনা সংগ্রহ করতে পারলেই গ্রহে যাওয়ার টিকিট পাবে চন্দ্রবোট। ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রতিযোগিতার সময় বাংলাদেশী বিজ্ঞানীরা এটি পরিচালনা করবেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে যেমন আমাদের জন্য একটি গৌরবের বিষয় হবে, তেমনি নাসায়ও আমাদের বিজ্ঞানীদের রোবট নিয়ে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

গতকাল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গিয়ে দেখা যায়, দেশের ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের নিয়ে প্রফেসর খলিলুর রহমান চন্দ্রবোটের সর্বশেষ কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। তারা বলেন, ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে নাসা দ্বিতীয় লুনাবোটিকস কম্পিটিশন আহ্বান করে। অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবেদন করা হয়। এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নাসা’র রোবট তৈরির একটি নির্দেশনা ছিল। আবেদনের জবাব পাওয়ার আগেই সে অনুযায়ী অক্টোবরের ২০ তারিখ চন্দ্রবোট নির্মাতা দলের সদস্যরা একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। নাসা’র কোন সাড়া না পেলেও তারা রোবটটি কেমন হবে, ডিজাইন কি রকম করা যায় এবিষয়ে পরিকল্পনা নেন। এ পর্যায়ে চন্দ্রবোট তৈরি যখন সম্ভব মনে হয়, তার কিছু দিন পর নাসা থেকে জানানো হয়, প্রতিযোগিতা হচ্ছে না। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা তাদের কাজ থামাননি। পরিকল্পনা মতোই কাজ এগোতে থাকে। এর মধ্যে কম্পিউটার বিভাগের ছাত্র শিবলী ইমতিয়াজ হাসান রোবটের একটি থ্রি-ডি ক্যাড-এ এনিমেশন তৈরি করে। এটিকে ইন্টারনেটের ইউটিউবে আপলোড করা হয়। পাশাপাশি পাঠানো হয় নাসা’র কাছেও। সেখানে এটি কিভাবে কাজ করবে, কেমন হবে তার একটি স্পষ্ট বর্ণনাও দেয়া হয়। এতেই আগ্রহী হয়ে ওঠে নাসা। সঙ্গে সঙ্গে এটিকে মনোনয়নের কথা জানিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অনুরোধ করা হয়। বিজ্ঞানীরা জানান, এটি তৈরি হয়েছে পুরোপুরি নিজস্ব টেকনোলজিতে। পরিবেশবান্ধব করা হয়েছে একে। এর কাঠামোর বিভিন্ন অংশ নেয়া হয়েছে পরিত্যক্ত বা ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি থেকে। এর মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেল ও বাস। তৈরিতে বাইরে থেকে শুধুমাত্র ওয়ার্কশপের এক ঝালাই মেকানিকের সহায়তা নেয়া হয়েছে। বাকি সব কাজই করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই দলের অন্য সদস্য হলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. বেলাল ভূঁইয়া ও ড. মোসাদ্দেকুর রহমান। শিক্ষার্থীরা হচ্ছেন শিবলী ইমতিয়াজ হাসান, মো. জোনায়েদ হোসেন, মাহমুদুল হাসান অয়ন, আসিফুর রহমান, কাজী মুহাম্মদ রাজিন, ইফতিখার করীম রাহাত, ইমরান বিন জাফর এবং নির্ঝর তাহমিদুর রউফ। তারা বলেন, এই রোবটটি দু’টি জোনে কাজ করবে। প্রতিযোগিতায়ও এরকম জোন রাখা হবে। জোনগুলো হচ্ছে অবস্ট্রাকল ও মাইনিং। অবস্ট্রাকল জোনকে ধরে নেয়া হবে যেখানে রকেট অবতরণ করেছে সে জায়গা হিসেবে। যেহেতু রকেট অবতরণের পর সেখানকার মাটি পুড়ে যায় বা আসল অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। তাই গ্রহ থেকে নমুনা সংগ্রহে রোবটকে যেতে হবে একটু দূরে- মাইনিং জোনে। সেখান থেকে নমুনা এনে আবার রকেটে ফেলতে হবে। এটি সম্পূর্ণ রিমোট কন্ট্রোলে নিয়ন্ত্রিত হবে। চন্দ্রবোট তৈরিতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৯০ হাজার টাকা। এর মধ্যে উপাদানের মূল্য পড়েছে ৩৫ হাজার টাকার মতো। যন্ত্রাংশগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে বাসের পাদানির অ্যাঙ্গেল, মোটরসাইকেলের চেইন, স্টকেট ও রিং। ব্যাটারিই হচ্ছে এর একমাত্র জ্বালানি। তবে ব্যাটারিতে কোন লিকুইড থাকছে না। রোবটটি নাসা’র প্রতিযোগিতায় সাড়ে তিন বাই সাত মিটার দূরত্বের জায়গায় সর্বোচ্চ নমুনা সংগ্রহ করতে পারলেই গ্রহে যাওয়ার টিকিট পাবে চন্দ্রবোট। ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রতিযোগিতার সময় বাংলাদেশী বিজ্ঞানীরা এটি পরিচালনা করবেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে যেমন আমাদের জন্য একটি গৌরবের বিষয় হবে, তেমনি নাসায়ও আমাদের বিজ্ঞানীদের রোবট নিয়ে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

