বুধবার, ১৮ মে, ২০১১

http://newgenarationkushtia.blogspot.com/

‘ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন’
বুধবার, ১৮ মে ২০১১
স্টাফ রিপোর্টার: যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফ আবদুর রাকিবকে নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন যশোরের আইনজীবী সমাজ। রোববার সন্ধ্যায় শহরের আরবপুর এলাকায় মৎস্য ভবনের রেস্ট হাউজে মহিলাসহ আপত্তিকর অবস্থায় জনতার হাতে ধরা পড়ার ঘটনা শহরে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়লে এই বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জনতার হাতে আটকের পর রাকিব সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তবে এই ঘটনা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে। এই বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহে মাঠে নেমেছেন একদল তরুণ আইনজীবী। তাদের কথা হচ্ছে, এই ঘটনা যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে রাকিবকে তার পদ থেকে সরে যেতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। রাকিবের পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মীরাও এই বিষয় নিয়ে বিব্রত। তবে দলের দায়িত্বশীল কোন মহল এ ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ। জেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, রাকিব বর্তমানে দল থেকে বহিষ্কৃত। দলের প্রাথমিক কোন সদস্য পদও তার নেই। এহেন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে দলের হাইকমান্ড বেশ আগেই  দল থেকে বহিষ্কার করেছে। সুযোগ পেলেই তিনি দলের সঙ্গে, কর্মীদের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন। তার কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার কাছে দলের নারীকর্মীরা পর্যন্ত নিরাপদ ছিলেন না। ফলে রাকিব নতুন করে যে ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটা তার পুরনো অভ্যাস। এর আগেও তিনি এই ধরনের একাধিক ঘটনায় জনতার হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন।
গত রোববার সন্ধ্যায় লোকমুখে খবর শুনে স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকরা ছুটে গিয়েছিলেন শহরের মৎস্য ভবনের রেস্ট হাউসে। সেখানে এলাকার লোকজন ও স্থানীয় পত্রিকার ফটো সাংবাদিকরা নগ্ন মহিলাসহ রাকিবের ছবিও তোলেন। মুহূর্তে এ খবর রটে যায় শহরময়। সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটলেও পুলিশ রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে রাকিবকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
এদিকে রাকিবের এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। মুখে তাদের অনেকেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন, এটি নিয়ে রসিকতাও করছেন অনেকে; কিন্তু মিডিয়ার সামনে তারা কিছুই বলতে চাইছেন না।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বলেন, ঘটনা শুনেছি, সত্য-মিথ্যা এখনও জানি না। তিনি বলেন, সমিতির সদস্যদের অনেকেই এ ব্যাপারে আমার কাছে জানতে চাইছেন, কেউ কেউ ক্ষোভও প্রকাশ করছেন, অনেকে বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসিও করছেন। তিনি বলেন, ঘটনা যা-ই হোক, এতে আইনজীবী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। সভাপতি হিসেবে তিনি আইনের এই প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কিত করেছেন।
সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাচ্চু বলেছেন, এটি একটি কঠিন ষড়যন্ত্র বলেই মনে হচ্ছে। রাকিব সাহেবের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করবো আমরা।
জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক  অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু বলেছেন, কারও ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। রাকিব যদি সত্যিই কিছু করে থাকেন তবে তার দায়দায়িত্ব তার নিজের।
দুই কন্যা সন্তানের জনক রাকিব ছাত্রজীবনে গোপালগঞ্জ থেকে যশোর চলে আসেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শুরু করেন ছাত্র রাজনীতি। ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষ করে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেন। ’৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে রাকিব পত্নী আলেয়া আফরোজ মহিলা কোটায় এমপি নির্বাচিত হয়ে আলোচিত-সমালোচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে রাকিব দলীয় প্রার্থী আলী রেজা রাজুর বিরোধিতা করে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী শাহেদ আহমেদের চশমা মার্কার পক্ষে নির্বাচন করেন। দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও তিনি রাজু’র পক্ষে নির্বাচন না করায় দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শুরু হয় রাকিবের রাজনৈতিক পতন। যশোর পৌর নির্বাচনেও তার ভরাডুবি ঘটে। পরবর্তীকালে দলের জেলা সম্মেলনেও তিনি পরাজিত হন। একপর্যায়ে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। দলের একাধিক নেতা মনে করেন, রাকিবের এই অধঃপতনের জন্য তার চারিত্রিক দুর্বলতা অনেকটা দায়ী।
রাকিবের সমর্থকরা জানান, ঘটনা যেভাবে বলা হচ্ছে, আসলে তা নয়। ওই গৃহবধূর সঙ্গে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে শলাপরামর্শ করতেই তিনি তাকে নিয়ে মৎস্য ভবনের রেস্ট হাউসে গিয়েছিলেন। সেখানে বেনাপোল থেকে আরও দু’একজনের আসার কথা ছিল। রাকিব ভাইকে তার ড্রাইভার গাড়িতে করে মৎস্য ভবনে নামিয়ে দিয়ে এসে পাশের আদ্বীন হাসপাতালের সামনে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। কাজ শেষ করে তার যশোর ক্লাবে আসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ষড়যন্ত্রকারীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে রেস্ট হাউসের কেয়ারটেকার ফজল আলী জানিয়েছেন, রাকিব স্যার গত মাসের ২১ তারিখেও ওই মহিলাকে নিয়ে রেস্ট হাউসে আসেন। ঘণ্টা দুই অবস্থান করে চলে যান। যাওয়ার সময় তাকে ২শ’ টাকাও দিয়ে যান। ঘটনার দিন তিনিসহ মহিলাটি আসে। দরজা খুলে দিতে বললে আমি দোতলার রুমটি খুলে দিই। তাদের হাতে একটি বোতল ও একটি প্যাকেট ছিল। রাকিব স্যার আমাকে গ্লাস দিতে বলেন। আমি গ্লাস নিয়ে আসি। তিনি আমাকে গ্লাস রেখে চলে যেতে বলেন। আমি বের হলে তিনি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। আমি রেস্ট হাউসের নিচ তলায় কাজে ব্যস্ত ছিলাম। প্রায় এক-দেড় ঘণ্টা পরে হৈচৈ শুনে উপরে উঠে দেখি এ অবস্থা। মহিলাটি কান্নাকাটি করছে। রাকিব সাহেবের বেহাল অবস্থা। টেবিলের পরে তখনও বোতল, একটা গামলা ও দু’টি গ্লাস ছিল। রাকিব সাহেব টলছিলেন। আর যুবকরা রাকিব সাহেব ও মহিলাটিকে মারধর করছিল। এ ব্যাপারে ফজল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, যে দোষ করেছে সে শাস্তি পেয়েছে। এতে আমার অপরাধ কোথায় ? আমি তো হুকুমের গোলাম।
এদিকে গতকাল যশোরে মানবজমিন ছিল ‘টক অব দ্য টাউন’। রাতেই টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের কল্যাণে অনেকে সচিত্র এই প্রতিবেদনটি সম্পর্কে জানতে পারেন। সকালে বিভিন্ন পত্রিকা এজেন্টের দোকানে উৎসুক জনতার ঢল নামে। মানুষের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়ে পত্রিকা। সকাল সাড়ে ৯টার সময় মেসার্স এজাহার আলী, মেসার্স আনোয়ার আলম ব্রাদার্স ও মেসার্স হাফিজুর রহমানের ঘরে দেখা দেয় পত্রিকার সঙ্কট। এজেন্ট হাফিজুর রহমান মোবাইলে মানবজমিনকে জানান, নিয়মিত সংখ্যার অতিরিক্ত যত কপি এসেছিল সব শেষ। আনোয়ার আলম ব্রাদার্সের আলম বলেন, সকালেই সব কাগজ বিক্রি হয়ে গেছে। এখন যারা আসছেন, তাদের কোন পত্রিকা দিতে পারছি না। এদিকে এই খবর যাতে সাধারণ পাঠকের হাতে না পৌঁছায় তার জন্য রাকিবের সমর্থকরা বিভিন্ন এজেন্ট ও হকারের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যে পত্রিকা সংগ্রহে মাঠে নামে বেলা সাড়ে ৯টার পরে। ততক্ষণে পত্রিকা সবার হাতে হাতে। তার পরও বিভিন্ন হকারের কাছ থেকে বেশ কিছু সংখ্যক পত্রিকা রাকিবের সমর্থকরা উচ্চ মূল্যে সংগ্রহ করে নেন। এদিকে পাঠকরা পত্রিকা না পেয়ে শহরের দড়াটানা, ঈদগাহ ময়দান, জর্জ কোর্ট চত্বর, কালেকটরেট, মনিহার, চৌরাস্তা, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফটোকপির দোকান থেকে ১৫-২০ টাকায় ফটোকপি সংগ্রহ করেছেন।
http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&view=article&id=9585:2011-05-17-16-29-07&catid=49:2010-08-31-09-43-32&Itemid=83

1 টি মন্তব্য:

  1. অনেক ভাল। এই রকম প্রয়োজনীয় একটা পোস্ট দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আসা করি এই রকম পোস্ট আরও পাব। সময় থাকলে আমার online shopping bangladesh সাইটে ঘুরে আস্তে পারেন।

    উত্তরমুছুন