কুষ্টিয়া, ১৮ মে : কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন দাবিতে ডিসি অফিস ঘেরাও করে শিশু পরিবার (বালক)-এর এতিম ছাত্ররা। আজ বুধবার দুপুরে খাবার, পোশাক ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন দাবিতে শতাধিক ছাত্র এ কর্মসূচি পালন করে।
জানা গেছে, আজ সকালে বিভিন্ন দাবিতে জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সাথে দেখা করে শিশু পরিবার (বালক)-এর এতিম ছাত্ররা। এ সময় তারা বিভিন্ন অভিযোগ ও শিক্ষকদের অনিময় দুর্নীতির বিষয়ে তাকে অবহিত করে। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে।
এ ব্যাপারে ছাত্র ছানোয়ার হোসেন জানায়, গত তিন মাস যাবৎ শিক্ষকরা তাদের ঠিকমত খেতে দেয় না। ছাত্রদের পচা মাছ খেতে দেয়া হয়। অথচ শিক্ষকদের বাসায় বড় বড় মাছ ও বাজার করে পাঠানো হয়।
৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র হৃদয় হোসেন জানায়, তাদেরকে বাজারের সব চেয়ে নিম্নমানের পোশাক সরবরাহ করা হয়। যে পোশাক কয়েক মাসও পরা যায় না। প্রতিষ্ঠান থেকে জুতা দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হচ্ছে না। ছাত্ররা জুতা চাইলে শিক্ষকরা তেড়ে আসেন বলে সে জানায়। চিকিৎসা হলেও ওষুধ জোটে না। উল্টো কি কারণে অসুখ হয়েছে তার জন্য জবাবদিহি করতে হয় বলে সে জানায়। ওষুধ চাওয়ায় গত সপ্তাহে ৯ম শ্রেণীর ছাত্র মাসুদ রানাকে বেধড়ক পেটায় শিক্ষকরা। গাছ থেকে লেবু তোলার অবরাধে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র পরমেশ বিশ্বাসের খাবার বন্ধ করে দেয়াসহ তাকে বেধড়ক পেটায় নিবাসের শিক্ষকরা।
পরমেষ জানায়, নিবাসের শিক্ষক এলাহি, সেলিম, আব্দুল সালামসহ আরো কয়েকজন শিক্ষক অকারণে ছাত্রদের উপর নির্যাতন করে। তালিকা অনুযায়ী কোনো খাবার দেয়া হয় না।
প্রত্যেক ছাত্রের জন্য চিনি ও সাবান বরাদ্দ থাকলেও তা দেয়া হয় না। এসব সাবান-চিনি তত্ত্বাবধায়কসহ শিক্ষকদের বাড়িতে চলে যায় বলে সে জানায়। নিবাসে বিভিন্ন ফলের গাছ থাকলেও তারা সে ফল খেতে পারে না। এসব ফল শিক্ষকরা নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়।
জেলা সমাজ সেবার উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, ছাত্ররা যেসব অভিযোগ করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে শিক্ষকদের অবহেলার কারণে এক ছাত্রকে সন্ত্রাসীরা অপহরণের পর হত্যা করে। এ ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন